আয়কর নোটিশ — ২০২৫-২৬
আয়কর রিটার্ন

বিলম্বে রিটার্ন দিলে
জরিমানা কত, কী সুবিধা হারাবেন?

১৪ মে ২০২৬ উৎস: প্রথম আলো / এনবিআর সকল ব্যক্তি করদাতা

৩১ মার্চ ২০২৬ রিটার্ন জমার সময় শেষ হয়েছে। এরপরও রিটার্ন দেওয়া যাবে — তবে জরিমানা ও সুদ দিতে হবে এবং বিনিয়োগ-রেয়াতসহ একাধিক কর-সুবিধা হারাবেন।

সময়সীমা শেষ — তবুও রিটার্ন দেওয়া যাবে ৩১ মার্চের পরেও আগের দুই বছর পর্যন্ত বকেয়া রিটার্ন দিতে পারবেন। তবে জরিমানা ও সুদ প্রযোজ্য হবে।

জরিমানা ও সুদ

বিলম্বে রিটার্ন দিলে কত সুদ দিতে হবে?

নির্ধারিত সময়ের পর রিটার্ন দিলে আরোপিত করের ওপর মাসিক ২% হারে সুদ দিতে হবে। সর্বোচ্চ ২৪ মাসের জন্য এই সুদ প্রযোজ্য হবে — অর্থাৎ সর্বোচ্চ ৪৮% পর্যন্ত সুদ আরোপিত হতে পারে।

তবে ভালো খবর হলো অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে বছরের ৩৬৫ দিনই — কোনো অফিসে যেতে হবে না, কারও অনুমতি লাগবে না।

বিলম্বের মাস সুদের হার উদাহরণ (কর ১০,০০০ টাকা)
১ মাস ২% ২০০ টাকা সুদ
৬ মাস ১২% ১,২০০ টাকা সুদ
১২ মাস ২৪% ২,৪০০ টাকা সুদ
২৪ মাস (সর্বোচ্চ) ৪৮% ৪,৮০০ টাকা সুদ

হারানো সুবিধা

কী কর-সুবিধা পাবেন না?

সময়মতো রিটার্ন না দিলে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত হারানো। সরকার নির্ধারিত ৯টি খাতে বিনিয়োগ করলে যে করছাড় পাওয়া যায়, সেটা আর পাবেন না।

বিনিয়োগ রেয়াতের হিসাব (স্বাভাবিক সময়ে)
✦ মোট আয়ের ০.০৩%
✦ মোট অনুমোদনযোগ্য বিনিয়োগের ১৫%
✦ সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা
→ এই তিনটির মধ্যে যেটি সবচেয়ে কম, সেটিই রেয়াতের পরিমাণ।
বিলম্বে রিটার্ন দিলে এই পুরো সুবিধা বাতিল।
বিনিয়োগ রেয়াত নেই
৯টি অনুমোদিত খাতে বিনিয়োগের বিপরীতে যে করছাড় পাওয়ার কথা, তা পাবেন না।
বাতিল
💸
মাসিক ২% সুদ
আরোপিত করের উপর মাসিক ২% হারে সুদ যোগ হতে থাকবে, সর্বোচ্চ ২৪ মাস পর্যন্ত।
প্রযোজ্য
⚠️
ব্যাখ্যা দিতে হবে
পরবর্তী বছর রিটার্ন দিতে গেলে আগের বছর রিটার্ন না দেওয়ার যৌক্তিক কারণ দেখাতে হবে।
সতর্কতা

ব্যতিক্রম

যাঁদের জরিমানা হবে না

যেসব করদাতা ৩১ মার্চের আগেই আবেদন করে সময় বাড়িয়েছেন, তাঁদের ওপর কোনো জরিমানা আরোপ হবে না এবং করছাড়-সুবিধাও পাবেন।

সময় বাড়ানো করদাতারা নিরাপদ যাঁরা ৩১ মার্চের আগে আবেদন করে সময় বাড়িয়েছেন, তাঁরা বাড়ানো সময়ের মধ্যে রিটার্ন দিলে সব সুবিধা পাবেন — কোনো জরিমানা নেই।
অনলাইনে রিটার্ন পেমেন্ট পদ্ধতি:
ইন্টারনেট ব্যাংকিং · ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড · মোবাইল ব্যাংকিং (bKash, Nagad ইত্যাদি)

অনলাইনে যা ডাউনলোড করা যাবে:
রিটার্নের কপি · প্রাপ্তি স্বীকারপত্র · আয়কর সনদ · টিআইএন সনদ

বর্তমান পরিস্থিতি

টিআইএনধারী ও রিটার্নের বিশাল ফারাক

বর্তমানে প্রায় সোয়া এক কোটি টিআইএনধারী রয়েছেন। কিন্তু গতবার মাত্র সাড়ে ৪২ লাখ করদাতা রিটার্ন দিয়েছেন। বাকি বিশাল অংশ রিটার্ন দেননি।

এনবিআর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন টিআইএনধারীদের দুই-তৃতীয়াংশই রিটার্ন দেন না। অনেকেই শুধু সরকারি-বেসরকারি সেবা পেতে টিআইএন নিয়েছেন, কিন্তু রিটার্ন আর দেননি।

তথ্যসূত্র ও দাবিত্যাগ
এই নোটিশের তথ্য সংগৃহীত হয়েছে প্রথম আলো পত্রিকার প্রতিবেদন এবং এনবিআর সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে। কর সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্তের আগে একজন যোগ্য কর পরামর্শদাতার সাথে আলোচনা করুন। প্রকাশকাল: ১৪ মে ২০২৬।
বিলম্বে রিটার্ন দিতে সাহায্য লাগবে?

জরিমানা কমানো, সময় বাড়ানো এবং সঠিকভাবে রিটার্ন ফাইলের জন্য এনবিআর-সার্টিফাইড ট্যাক্স লইয়ার হিসেবে আমি সহায়তা করতে পারি।